ডেস্ক | BangaAkhbar.in
ইব্রাহিম ত্রাওরে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাষ্ট্রপতি। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি পল-অঁরি সাঁদাওগো দামিবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সে ত্রাওরে বিশ্বের সর্বকনিষ্ট রাষ্ট্রপতি হন।
ইব্রাহিম ত্রাওরের জন্ম, শৈশব ও শিক্ষা
ত্রাওরে জন্মগ্রহণ করেন বুরকিনা ফাসোর বন্ডোকুই অঞ্চলের কেরা গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বোবো-দিউলাসো শহরে মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন, যেখানে তার মেধা ও নেতৃত্বের গুণ প্রশংসিত হয়। ২০০৬ সালে তিনি ওয়াগাদুগু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সম্মানের সাথে স্নাতক হন
সামরিক জীবন ও উত্থান
২০০৯ সালে ত্রাওরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দ্রুত পদোন্নতি পান। তিনি মরক্কোতে প্রশিক্ষণ নেন, মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেন এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন।
ক্ষমতা দখল ও নেতৃত্ব
২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, ক্যাপ্টেন ত্রাওরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পল-হেনরি সানদাওগো দামিবাকে সরিয়ে দেন এবং দেশের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হন। তিনি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন, ফরাসি প্রভাব কমিয়ে আঞ্চলিক জোট ‘Alliance of Sahel States’ গঠন করেছেন
ত্রাওরের নেতৃত্ব
ক্যাপ্টেন ত্রাওরের নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হ্রাস, এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, তিনি ফরাসি প্রভাব হ্রাস করে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ‘Alliance of Sahel States’ গঠন করেন।
ত্রাওরের নেতৃত্ব
- জনগণের মধ্যে দুর্নীতি, নিরাপত্তাহীনতা ও ফরাসি আধিপত্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিল। ত্রাওরের সামরিক অভ্যুত্থানকে অনেকেই দেশীয় স্বার্থরক্ষার ও আত্মনির্ভরতার পথ হিসেবে দেখেছেন, যার ফলে এটি কিছু অংশে জনসমর্থন লাভ করেছে।
- ত্রাওরের নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসোতে ফরাসি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি হ্রাস করা হয়েছে, কিছু সামরিক চুক্তি বাতিল হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্থানীয় বাহিনী ও আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর নির্ভর করা শুরু হয়েছে।
থমাস সানকারার আদর্শে অনুপ্রাণিত
থমাস সানকারা ১৯৮৩-১৯৮৭ সালের মধ্যে বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন এক প্রগতিশীল ও বিপ্লবী নেতা, যিনি দুর্নীতি, সাম্রাজ্যবাদ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। নিজের দেশের নাম ‘উপর ভল্টা’ থেকে বদলে ‘বুরকিনা ফাসো’ রাখেন—অর্থাৎ “সৎ মানুষের দেশ”। তার আদর্শ, দৃঢ়তা ও বিপ্লবী চেতনার জন্যই তাঁকে আফ্রিকার চে গেভারা বলা হয়।
ইব্রাহিম ত্রাওরের নীতিমালায় সানকারার আদর্শগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
- সরকারি সুবিধার অপব্যবহার না করে সাধারণ জীবনযাপন
- বিদেশি শক্তির প্রভাব কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন
- যুবসমাজকে নেতৃত্বে উৎসাহিত করা
এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলোই ত্রাওরেকে সানকারার আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
👉 ভিডিও তে দেখুন:
🌐 দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, পরীক্ষার আপডেট, স্কুল-কলেজ সংক্রান্ত তথ্যসহ নানা দরকারি আপডেট পেতে পড়ুন 👉 https://bangaakhbar.in