নিউজ ডেস্ক | BangaAkhbar.in
ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত “ওয়াক্ফ বোর্ড” বহু বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে ভারত সরকার উত্থাপন করেছে ‘ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’ যা বিদ্যমান আইনের উপর ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। ভারতের সংসদ সম্প্রতি বিতর্কিত “ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫” পাস করেছে, যা মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই বিলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের উদ্যোগে প্রণীত হয়েছে এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ওয়াক্ফ কী? (What is Waqf ?)
ওয়াক্ফ (Waqf) একটি ইসলামিক ধর্মীয় ধারণা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সম্পদ স্থায়ীভাবে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হয় এবং তা ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। একবার কোনো সম্পত্তি ওয়াক্ফ হিসেবে নিবন্ধিত হলে, তা ব্যক্তিগত মালিকানার আওতার বাইরে চলে যায় এবং বিক্রি, হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রদান করা যায় না।
ওয়াক্ফের প্রধান বৈশিষ্ট্য (Main features of Waqf)
- স্থায়ী দান: ওয়াক্ফ করা সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যক্তিগত মালিকানার বাইরে: একবার ওয়াক্ফ হয়ে গেলে, মালিক তা পুনরুদ্ধার করতে পারেন না।
- উদ্দেশ্য: সাধারণত মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, দরিদ্রদের সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতির জন্য ব্যবহার করা হয়।
- ওয়াক্ফ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ: মুসলিম দেশ ও ভারতে সরকার অনুমোদিত ওয়াক্ফ বোর্ড ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
ওয়াক্ফের ধরন (Types of Waqf:)
- ওয়াক্ফ খায়েরি (জনকল্যাণমূলক ওয়াক্ফ) – ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যালয় ইত্যাদির জন্য উৎসর্গিত সম্পত্তি।
- ওয়াক্ফ আহলি (পারিবারিক ওয়াক্ফ) – পরিবার ও উত্তরসূরিদের উপকারের জন্য করা হয়, তবে পরবর্তীতে এটি জনকল্যাণে ব্যয় হতে পারে।
ভারতে ওয়াক্ফ আইন (Waqf Law in India)
ভারতে ওয়াক্ফ অ্যাক্ট, ১৯৯৫ অনুযায়ী সমস্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি সরকার স্বীকৃত ওয়াক্ফ বোর্ড (Waqf board) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা বিভিন্ন রাজ্যে কার্যকর রয়েছে।
উদাহরণ:
- দিল্লির জামে মসজিদ ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসাবে নিবন্ধিত।
- তাজমহলের আশেপাশের কিছু সম্পত্তিও ওয়াক্ফ বোর্ডের অধীনে।
সংক্ষেপে, ওয়াক্ফ হল ইসলামিক আইনের অধীনে স্থায়ী জনকল্যাণমূলক দান, যা সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ওয়াক্ফ সম্পত্তি কী? (What is Waqf property? )
ওয়াক্ফ হল ইসলামিক ঐতিহ্যে একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধর্মীয়, দাতব্য বা পবিত্র উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা হয়। এই সম্পত্তিগুলি বিক্রি, উপহার বা উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর করা যায় না এবং সাধারণত মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল বা দরিদ্রদের সহায়তায় ব্যবহৃত হয়। ভারতে, ওয়াক্ফ সম্পত্তি ওয়াক্ফ বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়, যা তাদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। একবার ওয়াক্ফ হিসেবে ঘোষণা করা হলে সেই সম্পত্তি চিরতরে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য হয় এবং কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এর উপর ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করতে পারে না।
ওয়াক্ফ কীভাবে সৃষ্টি হয়? (How is a waqf created?)
ওয়াক্ফ (Waqf) সম্পত্তি সৃষ্টি করতে গেলে তিনটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
- ওয়াকিফ (Waqif; দানকারী): মুসলিম হতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মানসিক অবস্থার অধিকারী।
- সম্পত্তির প্রকৃতি: স্থাবর বা অস্থাবর যেকোনো সম্পত্তি হতে পারে, যেমন জমি, দোকান, নগদ অর্থ।
- উদ্দেশ্য: অবশ্যই ধর্মীয় বা সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে হবে।
একবার ওয়াক্ফ হয়ে গেলে সেটি পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত করা হয়। তারা সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করে।
বিশ্বজুড়ে ওয়াক্ফ সম্পত্তির অস্তিত্ব (The existence of waqf properties around the world)
ওয়াক্ফ (Waqf) শুধুমাত্র ভারতীয় প্রেক্ষাপট নয়, বরং ইসলামী জগতে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামো।
সৌদি আরব:
ওয়াক্ফ (Waqf) মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এখানে মসজিদ, হজ সেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের জন্য বিশাল পরিসরে ওয়াক্ফ সম্পত্তি রয়েছে।
তুরস্ক:
‘ভাকফলার জেনারেল ডিরেক্টরেট’ নামে সরকারি দপ্তর ওয়াক্ফ (Waqf) সম্পত্তি পরিচালনা করে। ওসমানীয় যুগ থেকে এই প্রথা চলে আসছে।
মালয়েশিয়া:
প্রতিটি রাজ্যে ইসলামিক কাউন্সিল ওয়াক্ফ সম্পত্তি তদারকি করে। এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে ‘ওয়াক্ফ বন্ড’ (Waqf bond)চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ:
বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংগঠনগুলির অধীনে বহু মসজিদ, কবরস্থান, স্কুল ও ইসলামিক সেন্টার ওয়াক্ফ (Waqf) ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
পাকিস্তান:
সরকারি ‘আউকাফ ডিপার্টমেন্ট’ ও ‘ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড’ ওয়াক্ফ (Waqf) সম্পত্তি পরিচালনা করে।
ইরান:
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বিশাল ওয়াক্ফ (Waqf) সম্পত্তির মালিক।
ভারতের বাইরে ওয়াক্ফ সম্পত্তির নিয়ম (Rules for Waqf properties outside India)
- তুরস্ক: আধুনিক ও সুসংগঠিত পদ্ধতি। সম্পূর্ণ সরকার নিয়ন্ত্রিত হলেও ধর্মীয় কাউন্সিলের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
- ইন্দোনেশিয়া: ওয়াক্ফ (Waqf) ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আইন কার্যকর। ‘ওয়াক্ফ রেজিস্ট্রি’ (Waqf registry) অত্যন্ত শক্তিশালী।
- ইরান: ওয়াক্ফ (Waqf) ব্যবস্থাপনার জন্য স্বাধীন ইসলামী সংস্থা ও ধর্মীয় নেতারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- মালয়েশিয়া: ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন রয়েছে।
ওয়াক্ফ আইন ১৯৯৫ বনাম সংশোধনী বিল ২০২৫: বিশ্লেষণাত্মক তুলনা (Waqf Act 1995 vs Amendment Bill 2025: Analytical Comparison)
বিষয় | ১৯৯৫ সালের আইন | সংশোধনী বিল ২০২৫ |
---|---|---|
সম্পত্তির রেকর্ড | ম্যানুয়াল রেজিস্ট্রেশন | বাধ্যতামূলক ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন |
পরিচালনা | রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ড দ্বারা | কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণে |
বোর্ড গঠন | মুসলিম সদস্য দ্বারা গঠিত | কেন্দ্রীয় মনোনীত, মুসলিম প্রতিনিধি বাদ |
মুতাওয়াল্লির ক্ষমতা | স্বায়ত্তশাসিত | কঠোর নজরদারিতে সীমাবদ্ধ |
স্থানীয় অংশগ্রহণ | ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা | কমপক্ষে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব |
হস্তান্তর | বোর্ড অনুমোদন প্রয়োজন | কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ভিত্তিক |
কেন সংশোধনী বিল ২০২৫ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অবিচার বলে মনে হচ্ছে? (Why does the Amendment Bill 2025 seem unfair to the Muslim community?)
১. ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা
ইসলামে ওয়াক্ফ সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় নিয়মে পরিচালিত হওয়া উচিত, কিন্তু নতুন বিল মুসলিমদের বোর্ড গঠন থেকে বাদ দিচ্ছে। ফলে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অবহেলিত হবে।
২. মুসলিমদের অংশগ্রহণহীনতা
১৯৯৫ সালের আইনে বোর্ডে শুধুমাত্র মুসলিম সদস্যদের রাখা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের সংশোধনীতে ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
৩. সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি
ওয়াক্ফ সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব আরোপের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় নিজস্ব ধর্মীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা হারাবে।
৪. আল্লাহর নামে দান করা সম্পত্তির উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ
ইসলামী মতে ওয়াক্ফ সম্পত্তি শুধুমাত্র আল্লাহর কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। পূর্ববর্তী আইনে এর উপর মুসলিমদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন তা রাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ায় ধর্মীয় উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা।
৫. বিতর্কিত জমি দখলের আশঙ্কা
অনেকের আশঙ্কা, সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ গেলে কিছু সংবেদনশীল জমি অধিগ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হবে, যেগুলি বর্তমানে দরগা, মসজিদ বা মাদ্রাসার অধীন।
৬. নতুন বোর্ডে মুসলিমদের অনুপস্থিতি
নতুন বিল অনুযায়ী ওয়াক্ফ বোর্ড গঠনে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব সংরক্ষিত নয়। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় অধিকারের বিরুদ্ধে।
৭. সংবিধানের সংখ্যালঘু অধিকার লঙ্ঘন
ভারতীয় সংবিধানের ধারা ২৫-৩০ অনুযায়ী ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার সুরক্ষিত। নতুন সংশোধনী সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫-এর প্রধান প্রস্তাবিত পরিবর্তনসমূহ

১. অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি (Inclusions of non-muslims): বিলটি কেন্দ্রীয় ওয়াক্ফ কাউন্সিল এবং রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ডগুলিতে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করে, যা বোর্ডগুলির বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। Reuters
২. সরকারি তদারকি বৃদ্ধি (Increased government oversight): সরকারি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মাধ্যমে ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। AP News
৩. বিতর্কিত সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ (Determining ownership of disputed property): সরকারকে বিতর্কিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা অতীতে ওয়াক্ফ বোর্ডের আওতায় ছিল। Reuters
৪. ডিজিটাইজেশন ও আধুনিকীকরণ (Digitization and modernization): ওয়াক্ফ সম্পত্তির রেকর্ড ডিজিটাইজ করার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ওয়াক্ফ সমর্থনকারীদের যুক্তি (argument of waqf proponents’ )
বিলের সমর্থকরা দাবি করেন যে, এই পরিবর্তনগুলি ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং দুর্নীতি কমাবে। তারা মনে করেন, অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি বোর্ডগুলির কার্যক্রমে বৈচিত্র্য ও স্বচ্ছতা আনবে।
ওয়াক্ফ সমালোচকদের উদ্বেগ (Concerns of Waqf critics)
সমালোচকরা বিলটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন এবং আশঙ্কা করছেন যে, এটি ধর্মীয় সম্পত্তির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে দেবে। তারা মনে করেন, অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ওয়াক্ফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন কমাবে এবং ধর্মীয় সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করবে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া (The reaction of the Muslim community)
মুসলিম সংগঠনগুলি, বিশেষ করে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, বিলটির বিরোধিতা করেছে এবং দাবি করেছে যে এটি ইসলামী নীতিমালা লঙ্ঘন করে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই বিলের মাধ্যমে ঐতিহাসিক মসজিদ ও ধর্মীয় সম্পত্তি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (political response)
বিরোধী দলগুলি, যেমন কংগ্রেস, বিলটির বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা মনে করেন, এই বিলটি সংখ্যালঘুদের অধিকার হ্রাস করবে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াবে।
FAQs
প্রশ্ন ১: ওয়াক্ফ সম্পত্তি কি বিক্রি করা যায়? (Can Waqf property be sold?)
না, ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রয়যোগ্য নয়।
প্রশ্ন ২: নতুন বিল অনুযায়ী বোর্ড কিভাবে গঠিত হবে? (How will the board be formed according to the new bill?)
কেন্দ্রীয় মনোনীত সদস্য দ্বারা গঠিত হবে, যেখানে মুসলিমদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।
প্রশ্ন ৩: এই বিল কি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে? (Can this bill be challenged in court?)
হ্যাঁ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নে এটি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: সরকার কেন এই পরিবর্তন এনেছে? (Why did the government make this change?)
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও অবৈধ দখল মুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: মুসলিম সম্প্রদায় এর প্রতিবাদ করছে কেন? (Why is the Muslim community protesting this?)
তাদের মতে, এটি ধর্মীয় অধিকার ও সম্পত্তির উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে এবং ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে দুর্বল করছে।
ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল ২০২৫ ভারতের ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে। যদিও ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও ত্বরিত দখল মুক্তির দিক থেকে এটি একটি আধুনিক উদ্যোগ, কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এর বাস্তবিক প্রভাব গভীরতর। বিশেষ করে ধর্মীয় সম্পত্তির উপর থেকে তাদের অধিকার হারানো, বোর্ডে অংশগ্রহণের অনুপস্থিতি এবং রাষ্ট্রের বাড়তি হস্তক্ষেপ, এই বিলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তাই এই বিল প্রয়োগে যতটা সম্ভব সংবিধানিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা আবশ্যক।
🌐 আরও পড়ুন @ https://bangaakhbar.in/
1 thought on “ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল ২০২৫ (Waqf Amendment Bill 2025)”