নিউজ ডেস্ক | BangaAkhbar.in
বাঙালিরা স্বাদবিলাসী বলেই পরিচিত। তাঁদের খাবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিচিত্র স্বাদের প্রতি কৌতূহল তাদেরকে সুস্বাদু খাবারের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। বাঙালিরা বিশ্বাস করে যে একটি মজাদার খাবার শুধু পেটের খিদে মেটায় না, বরং আত্মার খিদেও মেটায়। তাই তাদের রান্নায় মসলা, তেল, আর সুগন্ধযুক্ত মটন বিরিয়ানি রেসিপি এক আলাদা অমেক এনে দেয় মনে।
বিরিয়ানি বাংলায় একটি হৃদয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে কারণ এটি শুধু মসলাদারই নয়, এটি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সাথেও জড়িয়ে আছে। বিরিয়ানির প্রতিটি স্তর—মাংস, চাল, আলু, এবং মসলার পরিমিতির সংমিশ্রণ—বাঙালির মনোরঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এছাড়া, বিরিয়ানির গন্ধ আর দমে রান্না করার পদ্ধতি এই খাবারকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। উদযাপন, পারিবারিক মিলন বা বন্ধুর সাথে আড্ডা—বিরিয়ানি বাঙালির প্রত্যেক আনন্দময় মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
এই কারণেই মসলাদার বিরিয়ানি বাঙালির হৃদয়ের বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
শুধু বাঙালি নয়, বিরিয়ানি সারা বিশ্বের খাদ্যপ্রেমীদের কাছে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে, এবং এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বাসমতি চাল, নরম মাংস, আর সুগন্ধযুক্ত মসলার নিখুঁত সঙ্গম বিরিয়ানিকে খাদ্যজগতের এক অপূর্ব শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করেছে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে উদ্ভূত এই রান্নার ধরনটি শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়ে প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।
বাংলার মানুষের কাছে বিরিয়ানি শুধুমাত্র একটি খাবার নয়, এটি একটি অনুভূতি। বিখ্যাত কলকাতার রেস্টুরেন্ট স্টাইলের মটন বিরিয়ানি, যা অওধি স্বাদের দ্বারা প্রভাবিত, তার মশলার সূক্ষ্ম ব্যবহার এবং আলুর সংযোজনের কারণে বিশেষভাবে নজরকাড়া। ভালো খাবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং স্বাদের পরিমিতির প্রতি প্রশংসায় ভরপুর বাঙালিরা বিরিয়ানিকে তাদের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গ্রহণ করেছে। এটি উৎসব বা সাধারণ এক সান্ত্বনাজনক খাবার হিসাবে, বাংলার বিরিয়ানি সর্বদা হৃদয় জয় করতে সক্ষম।
তবে চলুন দেখে নিই কিভাবে ঘরে বসেই রেস্টুরেন্ট স্টাইলের মটন বিরিয়ানি বানানো যায়
রেস্টুরেন্ট স্টাইলের মটন বিরিয়ানি রেসিপির উপকরণগুলি নিম্নরূপ
ধাপে ধাপে রেস্টুরেন্ট স্টাইলের মটন বিরিয়ানি রেসিপি
👉মটন ম্যারিনেট করা:
মাংসকে (৭০০ গ্রাম -পাঁজরের অংশ হলে ভালো) ভালো ভাবে ধুয়ে একটি বড় পাত্রে রাখুন। তাতে টক দই: ১/২ কাপ টক দই, আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ, নুন, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ (শুকনো লঙ্কা দিলে পরিমাণ কমিয়ে দেবেন), হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ এবং শাহি গরম মশলা ১ চা চামচ, এবং লবণ পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন যাতে মাংস প্রতিটি অংশ মশলায় ভালভাবে মাখানো থাকে। এটি ঢেকে ফ্রিজে ২-৩ ঘন্টা ম্যারিনেট করুন। ম্যারিনেট করার ফলে মটন সঠিকভাবে মশলার স্বাদ শুষে নেয় এবং রান্নার পর নরম ও রসালো হয়।
👉 বাসমতি চাল সিদ্ধ করা:
চাল ধুয়ে পরিষ্কার করুন এবং ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। একটি কড়াইতে পানি ফুটান। তাতে তেজপাতা, এলাচ এবং নুন দিন। গরম পানিতে চাল ঢেলে দিয়ে হালকা সিদ্ধ করুন (৭০%-৮০% সিদ্ধ)। চাল যেন বেশি সিদ্ধ না হয়ে যায়, কারণ দমে রান্নার সময় এটি আরও সম্পূর্ণভাবে রান্না হবে। সিদ্ধ চাল ছেঁকে নিয়ে আলাদা রাখুন।
👉 পেঁয়াজ বেরেস্তা ও আলু ভাজা:
পেঁয়াজকে পাতলা স্লাইস করে তেলে ভেজে ক্রিস্পি বাদামি করে নিন। এটি বিরিয়ানির টপিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। আলুকে বড় টুকরো করে সেদ্ধ করুন এবং তেলে সোনালী করে ভেজে আলাদা রাখুন। এই ভাজা আলু কলকাতা-স্টাইলের বিরিয়ানির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
👉 মটন রান্না করা:
পাত্রে ১০০ গ্রাম মতো সর্ষের (চাইলে ঘি যোগ করতে পারেন) গরম করে তাতে ম্যারিনেট করা মাংস দিন। কয়েক ১৫ মিনিট মিনিট উচ্চ আঁচে ভাজুন, তারপর অল্প পানি যোগ করে ঢাকনা লাগিয়ে কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিট রান্না করুন। গভীর হাঁড়িতে কম আঁচে রান্না করুন, মাংসের স্বাদ অসাধারণ আসবে।
👉 ফাইনাল স্টেপ-স্তর তৈরি:
এখন বিরিয়ানির স্তর তৈরি করার সময়। একটি বড় হাঁড়ি নিন। সামান্য ঘি দিয়ে হাঁড়িকে গরম করে নিন। প্রথমে মাংসের একটি স্তর দিন। তার ওপর সিদ্ধ চাল ছড়িয়ে দিন। চালের ওপর কেশর দুধ ঢালুন যাতে এতে একটি সুন্দর রঙ আসে। তারপর ভাজা পেঁয়াজ ও আলু দিন। প্রতিটি স্তরে একটু ঘি ছড়িয়ে দিন। উপরে মিঠা আতর ছড়িয়ে দিয়ে ঢাকনা সীল করে দিন (ময়দা দিয়ে)
👉 দমে রান্না:
কম আঁচে ২০-২৫ মিনিট দমে রান্না করুন। দমে রান্নার ফলে প্রতিটি স্তর একে অপরের স্বাদ গ্রহণ করে এবং মটন ও চাল সুন্দরভাবে মাখামাখি হয়।
👉 পরিবেশন:
রেস্টুরেন্ট স্টাইলের মটন বিরিয়ানি এখন তৈরি! গরম অবস্থায় বিরিয়ানি পরিবেশন করুন রায়তা বা সালাদের সাথে।

এই বিস্তারিত নির্দেশিকা আপনাকে মটন বিরিয়ানি রেসিপি আরো নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে।
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, পরীক্ষার আপডেট, স্কুল-কলেজ সংক্রান্ত তথ্যসহ নানা দরকারি আপডেট পেতে পড়ুন 👉 https://bangaakhbar.in