নিউজ ডেস্ক | BangaAkhbar.in
সাঁইথিয়া, বীরভূম: হোলি উদযাপনের সময় দুটি সম্প্রদায় এর মধ্যে সংঘর্ষের (Birbhum Violence) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাঁইথিয়া, বীরভূম জেলার কিছু অংশে ইন্টারনেট এবং ভয়েস-ওভার-ইন্টারনেট টেলিফোনি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ১৪ই মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ১৭ই মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে যাতে গুজব রোধ করা যায় এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।
বীরভূম হিংসার (Birbhum Violence) পটভূমি
১৪ই মার্চ সাঁইথিয়া শহরে হোলি উৎসবের সময় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে পাথর ছোড়াছুড়ি ও শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের কারণ ছিল কিছু উসকানিমূলক ঘটনা, যা দ্রুত দাঙ্গায় রূপ নেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি পদক্ষেপ: বীরভূমে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সাঁইথিয়ার পার্শ্ববর্তী পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেয়:
- হাতোড়া
- মথপলসা
- হরিশরা
- দরিয়াপুর
- ফুলুর
তবে সাধারণ ভয়েস কল ও এসএমএস পরিষেবা চালু থাকবে যাতে জরুরি যোগাযোগ ব্যাহত না হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা: Birbhum Violence-এর পর গ্রেফতার ও টহল
পুলিশ ইতিমধ্যেই ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সংঘর্ষের কারণে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বঙ্গীয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন (BNSS)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো রোধে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: বীরভূম হিংসা নিয়ে বিতর্ক
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন যে হোলি উদযাপন করা হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) এক পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ বাংলাদেশের মতো হয়ে যাচ্ছে।”
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে, এটি নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির ষড়যন্ত্র মাত্র। TMC-র তরফে জানানো হয়েছে যে, সরকার সব ধর্মের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া: বীরভূমের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনলাইন লেনদেন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেউ কেউ একে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বলছেন, আবার কেউ দাবি করছেন যে এটি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, যা সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় ফেলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: Birbhum Violence-এর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরিস্থিতি এখনো তীব্র কিন্তু নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী, ১৭ই মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।
🌐 আরও জানতে পড়ুন @ https://bangaakhbar.in/